পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে মাওবাদী নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় বড়সড় ধাক্কা। পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে শ্বশুরবাড়িতে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর জালে ধরা পড়লেন সিপিআই (মাওবাদী) সংগঠনের অন্যতম শীর্ষ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আকাশ ওরফে অসীম মণ্ডল। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক অভিযান চালিয়ে ৬৪ বছর বয়সী এই শীর্ষ মাওবাদী নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে মাওবাদী পলিটব্যুরো ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আকাশের গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এক্স পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়ে স্পষ্ট জানান, পশ্চিমবঙ্গে ‘লাল সন্ত্রাস’ বা উগ্র বামপন্থী হিংসাকে কোনওভাবেই ফের মাথাচাড়া দিতে দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পুলিশের চোখ এড়িয়ে চলছিল এই মাওবাদী নেতা। তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ নিজেদের ব্যতিক্রমী দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।
পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রে খবর, দেশে মাওবাদী বিপর্যয়ের পর যে হাতে গোনা কয়েকজন শীর্ষ নেতা পুলিশের চোখ এড়িয়ে গা ঢাকা দিয়ে এলাকা বদলাচ্ছিলেন, আকাশ ছিলেন তাদের অন্যতম। সংগঠন পরিচালনায় অত্যন্ত চতুর এই মাওবাদী নেতার মাথার ওপর প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে ১ কোটি টাকা এবং ওড়িশায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার নগদ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার ফুলচক গ্রামের বাসিন্দা অসীম মণ্ডল আশির দশক থেকে অতিবাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে পিপলস ওয়ার গ্রুপ (PWG) এবং ২০০৪ সালে গঠিত সিপিআই (মাওবাদী) দলের হয়ে বাংলা ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তে ব্যাপক সক্রিয় হন। লালগড় আন্দোলনের সময়েও তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ঝিরামঘাটিতে কংগ্রেস নেতাদের গণহত্যার ১৩ বছর পর ১০ মাওবাদীকে ফাঁসির সাজা শোনাল এন আই এ-এর বিশেষ আদালত।
২০১০ সালে তৎকালীন রাজ্য সম্পাদক সুদীপ চোংদার গ্রেফতার হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান আকাশ। ২০১১ সালে পলিটব্যুরো সদস্য কিষাণজি ওরফে কোটেশ্বর রাওয়ের মৃত্যুর পর বাংলা সীমান্ত ঘেঁষা ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম অঞ্চলে দলের কাজ পরিচালনা করতেন তিনি।
সম্প্রতি একের পর এক এরিয়া কমান্ডার আত্মসমর্পণ করায় কোনঠাসা হয়ে পড়েন আকাশ। কিছুদিন সারান্ডা বনে মাওবাদী নেতা মিসির বেসরার আস্তানায় গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি মিসির বেসরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিজস্ব ছোট স্কোয়াড নিয়ে বাংলায় ঢোকার চেষ্টা করেন আকাশ। পথেই তাঁর তিন সঙ্গী গ্রেফতার হলে চূড়ান্ত আর্থিক সংকটে পড়েন তিনি।
জানা গেছে, তাঁর স্কোয়াডের যাবতীয় টাকা পুলিশের বাজেয়াপ্ত হওয়ায় শ্বশুরবাড়িতে কিছু টাকার জোগাড় করতে এসেছিলেন ৬৪ বছরের এই নেতা। তাঁর স্ত্রীও মাওবাদী সংগঠনের সাথে যুক্ত বলে খবর। সূত্রের খবর, রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের তরফে ইতিপূর্বে একাধিকবার তাঁকে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন আকাশ। দীর্ঘদিন ধরেই পটাশপুরের ওই শ্বশুরবাড়ির ওপর নজর রাখছিল কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। বৃহস্পতিবার ভোর ৩টে নাগাদ তিনি সেখানে পৌঁছনো মাত্রই ঘিরে ফেলে গ্রেপ্তার করা হয়।
খুলনা গেজেট/এনএম

